ব্রণ ও একনে সমস্যার কারণ, লক্ষণ ও প্রাকৃতিক যত্ন
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখে নতুন ব্রণ দেখলে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিশোর বয়স থেকে শুরু করে অনেকের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার পরও ব্রণের সমস্যা থেকে যায়। মুখ, কপাল, চিবুক ও পিঠে ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি, কালো বা সাদা মাথাযুক্ত দানা কিংবা ব্যথাযুক্ত বড় ব্রণ — এই সমস্যাগুলো আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে। ত্বকের তেল গ্রন্থি বেশি সক্রিয় হয়ে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়াই মূলত ব্রণের প্রধান কারণ।
সঠিক যত্ন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও উপযুক্ত ত্বকের যত্নে সহায়ক ভেষজ মলম-লোশনের মাধ্যমে ব্রণের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এই পাতায় আমরা ব্রণ ও একনের কারণ, লক্ষণ ও ঘরোয়া যত্ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। পরামর্শের জন্য কল করুন হটলাইন ০৯৬৬৬৭৯২৪৯২ নম্বরে।
ব্রণ ও একনে আসলে কী?
ত্বকের নিচে থাকা তেল গ্রন্থি যখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে, তখন তা মৃত কোষ ও ময়লার সাথে মিলে লোমকূপ বন্ধ করে দেয়। এই বন্ধ লোমকূপে ব্যাকটেরিয়া জমে প্রদাহ তৈরি হলে তা ব্রণ বা একনে হিসেবে প্রকাশ পায়। ব্রণ ছোট সাদা বা কালো দানার মতো হতে পারে, আবার লাল ফোলা ও ব্যথাযুক্ত বড় আকারেও দেখা দিতে পারে। মুখ, কপাল, নাক, চিবুক ও পিঠ — এসব স্থানে তেল গ্রন্থি বেশি থাকায় ব্রণ বেশি দেখা যায়।
লক্ষণ ও উপসর্গ
ব্রণ ও একনে সমস্যায় সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়।
- মুখে ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি বা দানা
- কালো বা সাদা মাথাযুক্ত ব্রণ (ব্ল্যাকহেড-হোয়াইটহেড)
- ফোলা ও ব্যথাযুক্ত বড় ব্রণ (সিস্টিক ব্রণ)
- ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে থাকা
- ব্রণ শুকানোর পর কালচে দাগ থেকে যাওয়া
- ত্বকে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া অনুভূতি
- মুখের পাশাপাশি পিঠ ও বুকেও ব্রণ হওয়া
কারণ
ব্রণ ও একনে হওয়ার পেছনে সাধারণত যেসব কারণ কাজ করে।
- তৈলাক্ত ত্বক ও অতিরিক্ত সিবাম উৎপাদন
- বয়ঃসন্ধিকালে ও মাসিকের সময় হরমোনের পরিবর্তন
- ত্বক ঠিকমতো পরিষ্কার না রাখা
- ভুল বা ভারী প্রসাধনী ব্যবহার
- অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও মিষ্টি খাবার
- মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব
- ধুলাবালি ও দূষিত পরিবেশ
- বংশগত প্রবণতা
অবহেলা করলে যা হতে পারে
অনেকেই ব্রণকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন বা হাত দিয়ে খুঁটে ফেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্রণে বারবার হাত দেওয়া বা চাপ দিলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার এবং স্থায়ী দাগ বা গর্ত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্রণ থেকে ত্বকে কালচে দাগ, অসম রঙ ও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই শুরুতেই সঠিক যত্ন নেওয়া ও ব্রণে হাত না দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
ঘরোয়া যত্ন ও পরামর্শ
ভেষজ যত্নের পাশাপাশি দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস ব্রণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
মুখ পরিষ্কার রাখা
দিনে দুইবার হালকা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। অতিরিক্ত ঘষাঘষি এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া বেড়ে যেতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস ও পানি
পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং তেল-চর্বিযুক্ত ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার কমিয়ে দিন। শাকসবজি ও ফলমূল বেশি করে খাওয়ার অভ্যাস ত্বকের স্বাস্থ্যে সহায়ক।
অন্যান্য অভ্যাস
বালিশের কভার নিয়মিত পরিবর্তন করুন, হাত দিয়ে মুখে বারবার স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন এবং রোদে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তিও ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কেন ভেষজ যত্ন সহায়ক হতে পারে?
ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক ও ভেষজ উপাদানের ব্যবহারের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। বাজারের অনেক রাসায়নিক পণ্য দ্রুত ফল দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ত্বক শুষ্ক বা সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। এর বিপরীতে ভেষজ মলম ও লোশন ত্বককে আলতোভাবে পরিচর্যা করে জীবাণু প্রতিরোধ ও ত্বকের প্রদাহ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে বলে ঐতিহ্যগতভাবে বিবেচনা করা হয়।
নিয়মিত সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার থাকতে, ব্রণের প্রদাহ কমাতে ও ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ভেষজ উপাদান সহায়ক হতে পারে বলে অনেকে জানিয়েছেন। তবে মনে রাখা জরুরি, ত্বকের ধরন সবার আলাদা, তাই ফলাফলও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। প্রথমবার ব্যবহারের আগে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
তীব্র সিস্টিক ব্রণ, বারবার সংক্রমণ বা কয়েক সপ্তাহেও উন্নতি না হলে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণ পরামর্শের জন্য আমাদের হটলাইন ০৯৬৬৬৭৯২৪৯২ নম্বরে যোগাযোগ করুন।
ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নেওয়া কেন জরুরি
সবার ত্বক একরকম নয় — কারো ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত, কারো শুষ্ক, আবার কারো সংমিশ্রণ ধরনের (মিশ্র) ত্বক থাকে। তৈলাক্ত ত্বকে সাধারণত ব্রণের প্রবণতা বেশি থাকে, কারণ সিবাম উৎপাদন বেশি হওয়ায় লোমকূপ সহজে বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে শুষ্ক ত্বকে ভুল প্রসাধনী বা অতিরিক্ত পরিষ্কারের ফলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ দেখা দিতে পারে। তাই যেকোনো যত্ন শুরু করার আগে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মিশ্র ত্বকে সাধারণত নাক, কপাল ও থুতনির অংশ (টি-জোন) তৈলাক্ত থাকে আর গালের দিকটা তুলনামূলক শুষ্ক থাকে। এক্ষেত্রে পুরো মুখে একই ধরনের যত্ন না নিয়ে স্থান বুঝে ভিন্নভাবে যত্ন নেওয়া ভালো ফল দিতে পারে। ঋতু পরিবর্তনের সময়, বিশেষত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বক বেশি তেল উৎপাদন করে, তাই এই সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হয়।
প্রস্তাবিত পণ্য
ত্বকের যত্ন ও ব্রণজনিত অস্বস্তি কমাতে হাকীম মাওলানা আশরাফ আলী এর অনুমোদিত ভেষজ মলম ও লোশন নিচে দেওয়া হলো।
প্রায়শই জিজ্ঞাসা
ব্রণ কেন বারবার হয়?
মলম ও লোশন কীভাবে ব্যবহার করব?
ব্রণের দাগ কি দূর হবে?
ব্রণ থাকলে কী খাবার এড়ানো উচিত?
ব্রণ খুঁটলে কী হয়?
কখন ত্বক বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত?
আজই শুরু করুন
ব্রণ ও ত্বকের যত্ন নিয়ে সঠিক পরামর্শ পেতে এখনই কল করুন হটলাইন ০৯৬৬৬৭৯২৪৯২ নম্বরে।
হাকীম মাওলানা আশরাফ আলী