হাব্বে শিফা — ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ঐতিহ্যবাহী ইউনানি হাব
রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষায় প্রাচীন ইউনানি জ্ঞান ও প্রকৃতির ভেষজ শক্তির সম্মিলন — হাব্বে শিফা, হাকীম মাওলানা আশরাফ আলীর তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত।
হাব্বে শিফা একটি ঐতিহ্যবাহী ইউনানি যৌগ ফর্মুলা, যা "হাব" বা "কুরস" (ছোট বটিকা) ডোজ-ফর্মে প্রস্তুত করা হয়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইউনানি ফর্মুলারি ও প্রামাণ্য কারাবাদিন গ্রন্থে বর্ণিত নীতি অনুসরণ করে করলা, মেথি, জামুন, গুড়মার ও নিমের মতো রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভেষজ উপাদান একত্রে মিশিয়ে ছোট ছোট বটিকা আকারে তৈরি করা হয় এই ফর্মুলা। ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্রে দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস বা "জেরিয়াবেত" জনিত সমস্যায় এ ধরনের হাব ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
হাকীম মাওলানা আশরাফ আলীর তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতকৃত হাব্বে শিফা রক্তে গ্লুকোজের ভারসাম্য বজায় রাখতে, দেহের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) স্বাভাবিক রাখতে এবং সার্বিক দুর্বলতা কমাতে সহায়ক হিসেবে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি কোনো তাৎক্ষণিক নিরাময়কারী ওষুধ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি সহায়ক ভেষজ থেরাপি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। যেকোনো সেবনের আগে অভিজ্ঞ হাকীমের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
প্রধান উপাদান
- করলা বীজ (Karela / Momordica charantia বীজ) — রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে ইউনানি গ্রন্থে বহুল ব্যবহৃত
- মেথি দানা (Methi / Trigonella foenum-graecum) — হজম প্রক্রিয়া ও গ্লুকোজ শোষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ঐতিহ্যগত উপাদান
- জামুন বীজ (Jamun / Syzygium cumini বীজ) — ইউনানি কারাবাদিনে ডায়াবেটিস-সংক্রান্ত ফর্মুলায় প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত
- গুড়মার পাতা (Gurmar / Gymnema sylvestre) — প্রচলিতভাবে 'সুগার-ডেস্ট্রয়ার' নামে পরিচিত, ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত
- নিম বীজ/পাতা (Neem / Azadirachta indica) — রক্ত পরিশোধক ও দাহনাশক গুণসম্পন্ন হিসেবে ইউনানি চিকিৎসায় স্বীকৃত
- তুলসী বীজ (Tulsi / Ocimum sanctum) — ঐতিহ্যগত ফর্মুলারিতে বিপাকক্রিয়া সহায়ক উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত
- আমলকী (Amla / Emblica officinalis) — ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ, ইউনানি মতে রস তৈরিতে সহায়ক ও শক্তিদায়ক
- হরীতকী (Haritaki / Terminalia chebula) — ত্রিফলার অন্যতম উপাদান, হজম ও বিপাক সমতা রক্ষায় ব্যবহৃত
- বহেড়া (Bahera / Terminalia bellirica) — ত্রিফলার অংশ হিসেবে দেহের সাধারণ সুস্থতা রক্ষায় সহায়ক
- কালোজিরা (Kalonji / Nigella sativa) — ইউনানি কারাবাদিনে বহু রোগে ব্যবহৃত সর্বজনস্বীকৃত উপাদান
- সোনাপাতা/গুলঞ্চ (Giloy / Tinospora cordifolia) — রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও রক্ত পরিশোধনে ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত
- মধু/গাম আরবি (আঠা, বন্ধনকারক) — হাব তৈরির জন্য প্রথাগত বাইন্ডার হিসেবে ব্যবহৃত
কোন কোন রোগে উপকারী
হাব্বে শিফা মূলত ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার আধিক্যজনিত সমস্যায় ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত একটি ইউনানি ফর্মুলা। ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্র মতে যেসব ক্ষেত্রে এই হাব প্রচলিতভাবে সহায়ক বলে বিবেচিত হয়, তা নিচে উল্লেখ করা হলো।
প্রচলিত ব্যবহারক্ষেত্র
- টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক থেরাপি হিসেবে
- ডায়াবেটিসজনিত অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা কমাতে
- ডায়াবেটিসের কারণে সৃষ্ট সাধারণ দুর্বলতা ও ক্লান্তি নিরসনে
- বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভেষজ সমর্থন হিসেবে
- প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় সতর্কতামূলক ব্যবহারের জন্য (হাকীমের পরামর্শক্রমে)
মনে রাখা জরুরি, হাব্বে শিফা কোনো নির্দিষ্ট রোগের নিশ্চিত নিরাময়কারী নয় বরং ঐতিহ্যগত ইউনানি চিকিৎসাপদ্ধতিতে সহায়ক ভেষজ ফর্মুলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইনসুলিন-নির্ভর টাইপ-১ ডায়াবেটিস বা জটিল জটিলতাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এটি একক চিকিৎসা হিসেবে যথেষ্ট নয়; আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
কীভাবে কাজ করে
ইউনানি চিকিৎসাদর্শন অনুযায়ী ডায়াবেটিস মূলত দেহের হজম ও নির্গমন প্রক্রিয়ায় ভারসাম্যহীনতা এবং অগ্ন্যাশয় (ল্যাবলাব) সম্পর্কিত অঙ্গের দুর্বলতা থেকে সৃষ্টি হয় বলে বিবেচিত হয়। হাব্বে শিফায় ব্যবহৃত প্রতিটি ভেষজ উপাদান নির্দিষ্ট গুণাগুণের ভিত্তিতে নির্বাচিত।
উপাদানভিত্তিক কার্যকারিতা
- করলা ও জামুন বীজ ঐতিহ্যগতভাবে রক্তে শর্করা শোষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে বিবেচিত
- মেথি দানা হজমপ্রক্রিয়া ধীর করে খাদ্য থেকে শর্করা শোষণে ভারসাম্য আনতে সাহায্য করে
- গুড়মার পাতা মিষ্টি স্বাদের প্রতি আসক্তি কমাতে ও শর্করা বিপাকে সহায়ক হিসেবে পরিচিত
- নিম ও গুলঞ্চ রক্ত পরিশোধনে এবং দেহের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে
- ত্রিফলা (হরীতকী-বহেড়া-আমলকী) সার্বিক হজম ও বিপাকতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে
এই সকল উপাদান একত্রে ইউনানি নীতি অনুযায়ী দেহের 'মিজাজ' (প্রকৃতি) সমতায় আনতে এবং অগ্ন্যাশয়ের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলে ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করা হয়। এই কার্যকারিতা বহু বছরের প্রায়োগিক অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যগত জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে বর্ণিত, তবে ব্যক্তিভেদে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।
সেবনবিধি ও মাত্রা
হাব্বে শিফা সঠিকভাবে সেবন করলেই কাঙ্ক্ষিত উপকার পাওয়া সম্ভব। সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর জন্য প্রচলিত সেবনবিধি নিচে দেওয়া হলো, তবে প্রতিটি রোগীর বয়স, ওজন ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী এই মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রচলিত মাত্রা
- প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: প্রতিদিন সকালে ও রাতে ২টি করে হাব, মোট দিনে ২ বার
- সেবনের সময়: খাবারের আধা ঘণ্টা আগে কুসুম গরম পানি বা দুধের সাথে
- শিশুদের ক্ষেত্রে: হাকীমের পরামর্শ ছাড়া সেবন করানো উচিত নয়
- ধারাবাহিকতা: নিয়মিত ৪-৬ সপ্তাহ বা হাকীমের নির্দেশিত সময় পর্যন্ত সেবন চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন
সেবনকালে নিয়মিত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা উচিত, বিশেষত যারা ইতোমধ্যে অ্যালোপ্যাথিক ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করছেন। কোনো ডোজ মিস হয়ে গেলে দ্বিগুণ মাত্রা একসাথে সেবন করা উচিত নয়। সঠিক ও ব্যক্তিগতকৃত মাত্রা জানতে হাকীম মাওলানা আশরাফ আলীর হটলাইন ০৯৬৬৬৭৯২৪৯২ নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সতর্কতা ও সংরক্ষণ
যেকোনো ভেষজ বা ইউনানি ওষুধের মতোই হাব্বে শিফা সেবনের ক্ষেত্রেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চলা উচিত, যাতে সেবন নিরাপদ ও কার্যকর হয়।
সতর্কতা
- গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরা সেবনের আগে অবশ্যই হাকীমের পরামর্শ নিন
- অ্যালোপ্যাথিক ডায়াবেটিসের ওষুধের সাথে একত্রে সেবনে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বিধায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সেবন করুন
- কিডনি বা লিভারের জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা সেবনের পূর্বে পরামর্শ নিন
- নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত সেবন থেকে বিরত থাকুন
- শিশুদের ও গৃহপালিত প্রাণীর নাগালের বাইরে সংরক্ষণ করুন
সংরক্ষণ পদ্ধতি
হাব্বে শিফা ঠান্ডা, শুষ্ক ও আলোবিহীন স্থানে সংরক্ষণ করুন। সরাসরি সূর্যালোক ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন এবং প্যাকেট বা কৌটার মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ হাব সেবন করবেন না। যেকোনো প্রতিক্রিয়া বা অস্বস্তি অনুভব করলে সাথে সাথে সেবন বন্ধ করে হাকীমের পরামর্শ নিন। আসল ও মানসম্মত হাব্বে শিফা পেতে সরাসরি 09666792492.com থেকে অর্ডার করুন অথবা হটলাইন ০৯৬৬৬৭৯২৪৯২ নম্বরে কল করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসা
হাব্বে শিফা প্রতিদিন কতটি করে খেতে হয়?
হাব্বে শিফা কি অ্যালোপ্যাথিক ডায়াবেটিসের ওষুধের সাথে একসাথে খাওয়া যায়?
ফলাফল পেতে কতদিন সেবন করতে হয়?
গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েরা কি হাব্বে শিফা সেবন করতে পারবেন?
হাব্বে শিফা সেবনকালে খাদ্যাভ্যাসে কী মেনে চলা উচিত?
আসল হাব্বে শিফা কোথায় পাওয়া যাবে?
পরামর্শ নিন
হাব্বে শিফা বা এ ধরনের ইউনানি ফর্মুলা সম্পর্কে জানতে ও সঠিক পণ্য বেছে নিতে এখনই কল করুন হটলাইন ০৯৬৬৬৭৯২৪৯২ নম্বরে।
হাকীম মাওলানা আশরাফ আলী