শিশুদের পেটের কৃমি দূর করার উপায় ও ঘরোয়া যত্ন
বাচ্চা ঠিকমতো খেতে চায় না, রাতে ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করে, পেট ফাঁপা থাকে অথবা বয়স অনুযায়ী ওজন বাড়ছে না — এসব লক্ষণ দেখলে অনেক অভিভাবকই চিন্তিত হয়ে পড়েন। এর একটি সাধারণ কারণ হতে পারে পেটে কৃমির উপদ্রব। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশে শিশুদের মধ্যে কৃমির সংক্রমণ বেশ সাধারণ একটি সমস্যা, বিশেষ করে যেসব শিশু মাটিতে খেলে বা হাত না ধুয়ে খাবার খায় তাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
কৃমি নিজে থেকে খুব বিপজ্জনক না হলেও দীর্ঘদিন থাকলে শিশুর পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়, ফলে ক্ষুধামন্দা, রক্তস্বল্পতা ও বৃদ্ধিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই সময়মতো সচেতন হওয়া ও সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এই পাতায় আমরা শিশুদের পেটের কৃমির লক্ষণ, কারণ, ঘরোয়া যত্ন ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করব। পরামর্শের জন্য কল করুন হটলাইন ০৯৬৬৬৭৯২৪৯২ নম্বরে।
কৃমি আসলে কী?
কৃমি হলো ক্ষুদ্র পরজীবী যা শিশুর অন্ত্রে বাস করে ও খাদ্য থেকে পুষ্টি শুষে নেয়। সাধারণত দূষিত পানি, না ধোয়া হাত, মাটিতে খেলাধুলা বা কাঁচা-অপরিষ্কার খাবারের মাধ্যমে কৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সুতা কৃমি (থ্রেডওয়ার্ম) ও গোল কৃমি (রাউন্ডওয়ার্ম), যা মূলত পাঁচ থেকে বারো বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
লক্ষণ ও উপসর্গ
শিশুর পেটে কৃমি হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে।
- ক্ষুধামন্দা ও খাবারে অনীহা
- পেট ফাঁপা ও মাঝে মাঝে পেটে ব্যথা
- রাতে ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করা
- পায়খানার রাস্তায় চুলকানি, বিশেষত রাতে
- বয়স অনুযায়ী ওজন ও উচ্চতা না বাড়া
- মুখে দুর্গন্ধ ও জিভে সাদা প্রলেপ
- অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ ও ঘুমে ব্যাঘাত
- ফ্যাকাশে চেহারা ও দুর্বলতা
কারণ
শিশুদের পেটে কৃমি হওয়ার পেছনে সাধারণত যেসব কারণ কাজ করে।
- খাওয়ার আগে ও টয়লেটের পর হাত না ধোয়া
- নখ বড় রাখা ও নখের নিচে ময়লা জমা
- মাটিতে খালি পায়ে খেলাধুলা
- দূষিত বা অবিশুদ্ধ পানি পান করা
- রাস্তার খোলা খাবার বা না ধোয়া ফলমূল খাওয়া
- বাসার পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকা
- পরিবারের একজনের কৃমি থেকে অন্যদের মধ্যে ছড়ানো
অবহেলা করলে যা হতে পারে
অনেক অভিভাবক কৃমিকে সাধারণ সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কৃমি থেকে গেলে শিশুর শরীরে খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকমতো শোষিত হয় না। এর ফলে ধীরে ধীরে রক্তস্বল্পতা, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা এবং বয়স অনুযায়ী ওজন-উচ্চতা বৃদ্ধিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এছাড়া কৃমির কারণে শিশুর মনোযোগ ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত, ঘুমের সমস্যা ও খিটখিটে স্বভাবও দেখা দিতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঘরোয়া যত্ন ও প্রতিরোধের উপায়
কৃমি প্রতিরোধে দৈনন্দিন কিছু পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতা
শিশুকে খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস করান। নখ নিয়মিত কেটে ছোট রাখুন, কারণ নখের নিচে কৃমির ডিম জমে থাকতে পারে।
খাবার ও পানি
ফলমূল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ান, ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করান এবং রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলুন। খাবার সবসময় ঢেকে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
প্রতিরোধমূলক অভ্যাস
মাটিতে খালি পায়ে খেলাধুলা কমান এবং বাসার বিছানা, খেলনা ও কাপড় নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। পরিবারের একজনের কৃমি হলে অন্যদেরও একইসাথে সতর্ক থাকা প্রয়োজন যাতে পুনরায় সংক্রমণ না ছড়ায়।
কেন সামগ্রিক স্বাস্থ্যের যত্ন গুরুত্বপূর্ণ?
কৃমির সরাসরি চিকিৎসা মূলত চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের মাধ্যমেই করা হয়, যা সাধারণত ছয় মাস বা এক বছর বয়স থেকে শুরু করে নিয়মিত বিরতিতে দেওয়া হয়। আমরা কোনো নির্দিষ্ট কৃমিনাশক দাবি করি না। তবে কৃমির কারণে যেসব শিশুর ক্ষুধামন্দা, হজমের দুর্বলতা ও পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়, তাদের ক্ষেত্রে সামগ্রিক হজমশক্তি ও স্বাস্থ্যের সহায়ক যত্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতিতে হজমশক্তি বৃদ্ধি ও শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন ভেষজ উপাদান ব্যবহারের ঐতিহ্য রয়েছে। কৃমিনাশক চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুর হজমশক্তি ভালো থাকলে খাদ্য থেকে পুষ্টি শোষণ উন্নত হতে সহায়ক হতে পারে বলে বিবেচনা করা হয়। তবে বয়স বুঝে ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যেকোনো ভেষজ সেবন করানো উচিত।
শিশুর ক্ষুধামন্দা দীর্ঘদিন থাকলে, ওজন কমতে থাকলে বা পায়খানায় সরাসরি কৃমি দেখা গেলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সাধারণ পরামর্শের জন্য আমাদের হটলাইন ০৯৬৬৬৭৯২৪৯২ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
স্কুলগামী শিশুদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
স্কুলে অনেক শিশু একসাথে খেলাধুলা করে, একই টয়লেট ব্যবহার করে এবং প্রায়ই টিফিন ভাগাভাগি করে খায় — এসব কারণে স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে কৃমি সংক্রমণ দ্রুত ছড়াতে পারে। তাই স্কুলে যাওয়ার আগে ও ফেরার পর হাত ধোয়ার অভ্যাস, নিজস্ব টিফিন বক্স ও পানির বোতল ব্যবহার এবং নিয়মিত নখ কাটার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
শিক্ষকদেরও উচিত ক্লাসে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করা। পরিবারে একজন শিশুর কৃমি ধরা পড়লে ভাইবোন ও অন্য শিশুদেরও পরীক্ষা করানো বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে বাসার মধ্যে বারবার সংক্রমণ না ছড়ায়।
প্রস্তাবিত পণ্য
কৃমির সরাসরি চিকিৎসা না হলেও, শিশুর ক্ষুধামন্দা ও হজমের সহায়ক যত্নে বড়দের জন্য তৈরি নিচের পণ্যগুলো সামগ্রিক স্বাস্থ্যের যত্নে বিবেচনা করা যেতে পারে (শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে বয়স ও মাত্রা নিয়ে পরামর্শ নিন)।
প্রায়শই জিজ্ঞাসা
কীভাবে বুঝব বাচ্চার পেটে কৃমি হয়েছে?
কৃমি কি বারবার হতে পারে?
কতদিন পরপর কৃমির ব্যবস্থা নেওয়া উচিত?
কৃমির কারণে কি শিশুর উচ্চতা-ওজন বৃদ্ধি ব্যাহত হয়?
কৃমি প্রতিরোধে কী অভ্যাস গড়ে তুলব?
ভেষজ যত্ন কি সরাসরি কৃমি মেরে ফেলে?
আজই শুরু করুন
শিশুর হজম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সহায়ক যত্ন নিয়ে পরামর্শ পেতে এখনই কল করুন হটলাইন ০৯৬৬৬৭৯২৪৯২ নম্বরে।
হাকীম মাওলানা আশরাফ আলী